1885 খ্রী. জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা ভারতের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে একটি যুগ পরিবর্তনকারী ঘটনা। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই পরবর্তীকালে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে। জাতীয় কংগ্রেস অন্যান্য সমস্ত রাজনৈতিক সংগঠনের থেকে ভিন্ন এবং সুদূরপ্রসারী ছিল। এতবড়ো একটি প্রতিষ্ঠানের জন্ম কোনো আকষ্মিক ঘটনা ছিল না। এর প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠাতা নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে।
একটি মত অনুযায়ী, 1877 খ্রী. মহারানী ভিক্টোরিয়ার সম্মানে আয়োজিত দিল্লি দরবার-এ বিভিন্ন ভারতীয় নেতাদের মধ্যে একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা বিষয়ে আলোচনা হয়। যার ফলশ্রুতি ভারতের জাতীয় কংগ্রেস।
অপর একটি মত অনুযায়ী, কলকাতায় লর্ড রিপন-এর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-এ বিভিন্ন রাজ্যের নেতারা একটি সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান এর প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করেন।
অ্যানি বেসান্ত বলেন যে, 1884 খ্রী. থিয়োসফিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক অধিবেশন-এ জাতীয় রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়।
আবার, 1883 খ্রী. ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত কলকাতার জাতীয় সম্মেলন-ই জাতীয় কংগ্রেস গঠনের পরিকল্পনা হয়। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার এই মত সমর্থন করেন।
অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম
অনেকের মতে, প্রাক্তন ইংরেজ কর্মচারি অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম জাতীয় কংগ্রেস-এর প্রতিষ্ঠাতা।
নিজের কর্মজীবনে হিউম ব্রিটিশ শাসনের প্রতি ভারতীয়দের ক্ষোভ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। তাই দেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের চিন্তাভাবনাকে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত করার জন্য হিউম জাতীয় কংগ্রেস গঠনের পরিকল্পনা করেন।
আসলে, তৎকালীন ভারতীয় নেতাদের কাছে সরকারি কর্মচারি হিউম-এর যথেষ্ট গ্রহনযোগ্যতা ছিল। তাঁরা জানতেন শুধুমাত্র ভারতীয়দের দ্বারা জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হলে সেটি প্রথম থেকেই সরকারের বিরাগভাজন হবে। কারন তখন দেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় নিয়ে সরকারের তীব্র সন্দেহ ছিল।
তাই হিউম-কে সামনে রেখে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করা হয়।
1885 খ্রী. 28 ডিসেম্বর জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন হয় বোম্বাই শহরের গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজ-এ।
জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন-এর সভাপতি ছিলেন উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।