গান্ধীজির হঠাৎ অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার-এর ফলে ভারতীয়দের মনে হতাশা তৈরি হয়।
এই সময় চিত্তরঞ্জন দাস ও মতিলাল নেহেরু-র নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত হয়, মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রহন করা হবে এবং আইনসভায় উপস্থিত হয়ে সরকারকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করা হবে। এই সিদ্ধান্ত গান্ধীজির অসহযোগ নীতির বিপরীত ছিল।
যে সমস্ত নেতা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেন তাঁদের Pro-changer বলা হত। অপরদিকে যাঁরা গান্ধীজির নীতির সমর্থক ছিলেন তাঁদের No-changer বলা হত।
1922 খ্রি. জাতীয় কংগ্রেসের গয়া অধিবেশন-এ সভাপতি হিসেবে চিত্তরঞ্জন দাস আইনসভায় প্রবেশের প্রস্তাব পেশ করলে, তাঁর প্রস্তাব বিপুল ভোটে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ চিত্তরঞ্জন দাস কংগ্রেসের সভাপতিত্ব ত্যাগ করে জাতীয় কংগ্রেসের ভিতরেই "কংগ্রেস খিলাফৎ স্বরাজ দল" বা স্বরাজ্য দল গঠন করেন।
নতুন এই দলের সভাপতি ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস এবং অন্যতম সম্পাদক ছিলেন মতিলাল নেহেরু।
স্বরাজ্য দলের কর্মসূচি ও কার্যাবলী
স্বরাজ্য দলের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বায়ত্বশাসন অর্জন।
আইনসভায় উপস্থিত থেকে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কাজে বাধা সৃষ্টি করে মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার-এর বিরোধিতা করে সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করে দেওয়া ছিল এই দলের অন্যতম উদ্দেশ্য।
জাতির স্বার্থে বিভিন্ন বিল উত্থাপন এবং বিভিন্ন আইনের প্রস্তাব গ্রহন করে দেশের অগ্রগতিতে সাহায্য করাও এই দলের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
স্বরাজ্য দল 1923 এর নির্বাচন-এ অংশগ্রহন করে এবং বাংলা, মধ্যপ্রদেশ, আসাম, বোম্বাই-তে খুবই সাফল্য অর্জন করে। বাংলায় স্বরাজ্য দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
1925 খ্রি. কেন্দ্রীয় আইনসভায় স্পিকার নির্বাচিত হন বিঠলভাই প্যাটেল।
প্রথম দিকে সাফল্য অর্জন করলেও স্বরাজ্য দল পরবর্তী সময়ে তার গুরুত্ব ধরে রাখতে পারেনি। চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যুর পর স্বরাজ্য দল বিভক্ত হয়ে যায়। সাধারন মানুষের জন্য উন্নয়ন কর্মসূচি কিংবা শ্রমিক, কৃষকদের জন্য খুব বেশি পরিকল্পনাও তারা গ্রহন করেনি।
স্বরাজ্য দলের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী না হলেও, এই দল তৎকালীন সময়ে একটি বিকল্প ব্যবস্থার সন্ধান দিতে পেরেছিল। মূলত এই দলের উদ্যোগেই ব্রিটিশ সরকার মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার পর্যালোচনার জন্য সাইমন কমিশন নিযুক্ত করে।