DocStore Login

Notifications

    Montagu-Chelmsford Reforms (1919)

    মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার (1919)

    29 Oct 2024   Updated: 10 Nov 2024

    বাল গঙ্গাধর তিলক ও অ্যানি বেসান্ত ব্রিটিশদের অধীনে ভারতে স্বায়ত্বশাসনের জন্য হোম রুল আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন। তাঁদের আন্দোলনের তীব্রতা ও জনগনের মধ্যে উদ্দীপনায় 1917 খ্রি. 20 আগস্ট ভারত সচিব মন্টেগু ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার স্থাপনের কথা ঘোষনা করেন।

    এরপর মন্টেগু ও বড়োলাট চেমসফোর্ড (1915 - 1921) ভারতে স্বায়ত্বশাসন দেওয়ার জন্য একটি রিপোর্ট পেশ করেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে 1919 খ্রি. মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার আইন পাশ করা হয়।

    এই শাসন সংস্কারে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত হয়ঃ

    কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্ব বন্টন
    • কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও আয় বন্টন করা হয়।
    • কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকে - প্রতিরক্ষা, রেল, মুদ্রা, বিদেশনীতি, ডাকব্যবস্থা ও শুল্ক।
    • প্রাদেশিক সরকারের অধীনে আইন-শৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ, পরিবহন, কৃষি, রাজস্ব ইত্যাদি বিষয় থাকে।
    প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্ব
    • প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্বগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় - (1) সংরক্ষিত বিষয় (2) হস্তান্তরিত বিষয়
    • সংরক্ষিত বিষয়গুলি ছিল - আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ, প্রশাসন, বিচার, অর্থ, শ্রম ইত্যাদি। এগুলি পরিচালনার দায়িত্ব ছিল প্রাদেশিক গভর্নর ও তাঁর কার্যনির্বাহী সভার।
    • হস্তান্তরিত বিষয়গুলি ছিল - শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি। এগুলি পরিচালনার দায়িত্ব ছিল প্রাদেশিক মন্ত্রীদের। প্রাদেশিক মন্ত্রীরা তাঁদের কাজের জন্য প্রাদেশিক আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকতেন।
    • হস্তান্তরিত বিষয়গুলিতে প্রাদেশিক আইনসভা কোনো আইন প্রনয়ন করতে পারত না। আইন প্রনয়ন করলে গভর্নর সেই আইন বাতিল করতে পারতেন।
    কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা
    • কেন্দ্রে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠিত হয়। উচ্চকক্ষের নাম রাষ্ট্রীয় পরিষদ ও নিম্নকক্ষের নাম কেন্দ্রীয় আইনসভা
    • উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা 60  । এঁদের মধ্যে 26 জন বড়োলাট দ্বারা মনোনীত এবং 34 জন নির্বাচিত 
    • নিম্নকক্ষের সদস্য সংখ্যা 140 । এঁদের মধ্যে 40 জন মনোনীত এবং 100 জন নির্বাচিত
    • কেন্দ্রীয় আইন সভার উভয় কক্ষে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
    • প্রাদেশিক আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট হয়।

    মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কারে ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া

    • এই শাসনসংস্কারকে নরমপন্থী নেতৃবৃন্দ যথা সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, তেজবাহাদুর সপ্রু, শ্রীনিবাস শাস্ত্রী প্রমুখ স্বাগত জানান।
    • চরমপন্থীরা এই সংস্কার প্রত্যাখ্যান করে।
    • এই শাসন সংস্কারের প্রস্তাবগুলি নিয়ে বিরোধের জন্য নরমপন্থীরা কংগ্রেস থেকে ন্যাশনাল লিবারেল ফেডারেশন গঠন করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।
    • জাতীয় কংগ্রেসের অমৃতসর অধিবেশন-এ এই শাসন সংস্কারকে তুচ্ছ, বিরক্তিকর ও নৈরাশ্যজনক বলা হয়।
    • অ্যানি বেসান্ত এই সংস্কারকে দাসত্বের পরিকল্পনা বলেন।

    More Study Materials