বাল গঙ্গাধর তিলক ও অ্যানি বেসান্ত ব্রিটিশদের অধীনে ভারতে স্বায়ত্বশাসনের জন্য হোম রুল আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন। তাঁদের আন্দোলনের তীব্রতা ও জনগনের মধ্যে উদ্দীপনায় 1917 খ্রি. 20 আগস্ট ভারত সচিব মন্টেগু ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার স্থাপনের কথা ঘোষনা করেন।
এরপর মন্টেগু ও বড়োলাট চেমসফোর্ড (1915 - 1921) ভারতে স্বায়ত্বশাসন দেওয়ার জন্য একটি রিপোর্ট পেশ করেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে 1919 খ্রি. মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার আইন পাশ করা হয়।
এই শাসন সংস্কারে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত হয়ঃ
কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্ব বন্টন
- কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও আয় বন্টন করা হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকে - প্রতিরক্ষা, রেল, মুদ্রা, বিদেশনীতি, ডাকব্যবস্থা ও শুল্ক।
- প্রাদেশিক সরকারের অধীনে আইন-শৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ, পরিবহন, কৃষি, রাজস্ব ইত্যাদি বিষয় থাকে।
প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্ব
- প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্বগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় - (1) সংরক্ষিত বিষয় (2) হস্তান্তরিত বিষয়
- সংরক্ষিত বিষয়গুলি ছিল - আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ, প্রশাসন, বিচার, অর্থ, শ্রম ইত্যাদি। এগুলি পরিচালনার দায়িত্ব ছিল প্রাদেশিক গভর্নর ও তাঁর কার্যনির্বাহী সভার।
- হস্তান্তরিত বিষয়গুলি ছিল - শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি। এগুলি পরিচালনার দায়িত্ব ছিল প্রাদেশিক মন্ত্রীদের। প্রাদেশিক মন্ত্রীরা তাঁদের কাজের জন্য প্রাদেশিক আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকতেন।
- হস্তান্তরিত বিষয়গুলিতে প্রাদেশিক আইনসভা কোনো আইন প্রনয়ন করতে পারত না। আইন প্রনয়ন করলে গভর্নর সেই আইন বাতিল করতে পারতেন।
কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা
- কেন্দ্রে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠিত হয়। উচ্চকক্ষের নাম রাষ্ট্রীয় পরিষদ ও নিম্নকক্ষের নাম কেন্দ্রীয় আইনসভা।
- উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা 60 । এঁদের মধ্যে 26 জন বড়োলাট দ্বারা মনোনীত এবং 34 জন নির্বাচিত ।
- নিম্নকক্ষের সদস্য সংখ্যা 140 । এঁদের মধ্যে 40 জন মনোনীত এবং 100 জন নির্বাচিত।
- কেন্দ্রীয় আইন সভার উভয় কক্ষে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
- প্রাদেশিক আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট হয়।
মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কারে ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া
- এই শাসনসংস্কারকে নরমপন্থী নেতৃবৃন্দ যথা সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, তেজবাহাদুর সপ্রু, শ্রীনিবাস শাস্ত্রী প্রমুখ স্বাগত জানান।
- চরমপন্থীরা এই সংস্কার প্রত্যাখ্যান করে।
- এই শাসন সংস্কারের প্রস্তাবগুলি নিয়ে বিরোধের জন্য নরমপন্থীরা কংগ্রেস থেকে ন্যাশনাল লিবারেল ফেডারেশন গঠন করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।
- জাতীয় কংগ্রেসের অমৃতসর অধিবেশন-এ এই শাসন সংস্কারকে তুচ্ছ, বিরক্তিকর ও নৈরাশ্যজনক বলা হয়।
- অ্যানি বেসান্ত এই সংস্কারকে দাসত্বের পরিকল্পনা বলেন।