মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার খতিয়ে দেখে শাসন সংস্কার অর্থাৎ সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যেই 1927 খ্রি. সাইমন কমিশন ভারতে এসেছিল। কিন্তু, সাইমন কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য না থাকা ভারতীয় নেতৃত্বকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করেছিল। তাঁরা ভারতীয়দের দ্বারা ভারতীয় সংবিধান রচনার জন্য উদ্যোগ নিতে থাকেন।
নেহেরু রিপোর্ট
- 1927 খ্রি. 27 ডিসেম্বর জাতীয় কংগ্রেসের মাদ্রাজ অধিবেশন-এ সকলের গ্রহনযোগ্য একটি সংবিধান রচনার প্রস্তাব গ্রহন করা হয়।
- এই অধিবেশনে জওহরলাল নেহেরু ও সুভাষচন্দ্র বসু পূর্ন স্বাধীনতার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- মাদ্রাজ অধিবেশনের প্রস্তাব মতো, 1928 খ্রি. 12 ফেব্রুয়ারি এম. এ. আনসারির নেতৃত্বে দিল্লিতে একটি সর্বদলীয় সম্মেলন হয়। এই সম্মেলনে মতিলাল নেহেরু-র নেতৃত্বে একটি কমিটির উপর সংবিধান রচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নেহেরু রিপোর্ট
1928 খ্রি. আগস্ট মাসে লক্ষ্ণৌ-এ সর্বদলীয় সম্মেলনে মতিলাল নেহেরু একটি খসড়া সংবিধান পেশ করেন। এই খসড়া নেহেরু রিপোর্ট নামে পরিচিত।
- নেহেরু রিপোর্টে পূর্ন স্বাধীনতার পরিবর্তে স্বায়ত্বশাসনের কথা বলা হয়েছিল।
- এজন্য, মুসলিম লিগ, হিন্দু মহাসভা এই রিপোর্টের বিরোধিতা করে।
জিন্না-র চৌদ্দ দফা দাবি
নেহেরু রিপোর্টের বিরোধিতা করে মহম্মদ আলি জিন্না 1929 খ্রি. 28 মার্চ দিল্লিতে মুসলিম লিগের অধিবেশনে চৌদ্দ দফা দাবি পেশ করেন।
ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গঠন
- 1928 খ্রি. সেপ্টেম্বর মাসে কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সমিতি নেহেরু রিপোর্টকে সমর্থন করে।
- এর ফলে জওহরলাল নেহেরু কংগ্রেসের সচিব পদ থেকে ইস্তফা দেন।
- সুভাষচন্দ্র বসু ও জওহরলাল নেহেরু একসঙ্গে ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গঠন করে পূর্ন স্বাধীনতা-র প্রচার করতে থাকেন।
লর্ড আরউইন এর ঘোষনা
- 1929 খ্রি. 31 অক্টোবর বড়লাট লর্ড আরউইন ঘোষনা করেন - ভারতকে স্বায়ত্বশাসন দেওয়া ব্রিটিশ সরকারের লক্ষ্য এবং সাইমন কমিশনের রিপোর্টের আলোচনার জন্য লন্ডনে ভারতীয় নেতৃত্বদের নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হবে।
- আরউইন-এর ঘোষনায় ব্রিটেনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। উইনস্টন চার্চিল এই ঘোষনাকে "একটি গুরুতর অপরাধ" বলেন।
- গান্ধীজি, মতিলাল নেহেরু, মহম্মদ আলি জিন্না প্রমুখ নেতা বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে হতাশ হন।
লাহোর অধিবেশনে পূর্ন স্বাধীনতার প্রস্তাব গ্রহন
- 1929 খ্রি. 31 ডিসেম্বর জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে মধ্যরাত্রিতে ইরাবতী নদীর তীরে জওহরলাল নেহেরু জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
- জওহরলাল "পূর্ন স্বরাজ"-কে জাতীয় আন্দোলনের লক্ষ্য বলে ঘোষনা করেন।
- এই অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র বসু একটি সমান্তরাল সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলেও, সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।
- অধিবেশনে অহিংস আইন অমান্য আন্দোলন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় গান্ধীজিকে।
- কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সমিতি থেকে সুভাষচন্দ্র বসু ও শ্রীনিবাস আয়েঙ্গারকে অপসারিত করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল গান্ধীজির পূর্ন নিয়ন্ত্রন। সুভাষচন্দ্র থাকলে সেই নিয়ন্ত্রনে সমস্যা ছিল।
26 জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
- 1930 খ্রি. 2 জানুয়ারি প্রতি বছর 26 জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- মহাত্মা গান্ধী একটি শপথনামা রচনা করেন।
মহাত্মা গান্ধীর শপথনামা
- স্বাধীনতা ভারতবাসীর জন্মগত অধিকার।
- এই অধিকার থেকে দেশবাসীকে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না।
- ব্রিটিশ শাসনে ভারতের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে।
- ভারতবাসীর কর্তব্য ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানো।
- ভারতবাসী অহিংসা, অসহযোগ ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে এই শাসনের অবসান ঘটাবে।
- পূর্ন স্বাধীনতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে।
- 26 জানুয়ারি দেশের সর্বত্র স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। জনগন গান্ধী রচিত শপথবাক্য পাঠ করে।
- 1947 খ্রি. পর্যন্ত প্রতি বছর সরকারের বিভিন্ন অত্যাচার সত্ত্বেও দেশবাসী 26 জানুয়ারি দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে এসেছে।
- এই দিনটিকে স্মরন করেই স্বাধীন ভারতের নতুন সংবিধান 1950 খ্রি. 26 জানুয়ারি কার্যকর করা হয় এবং দিনটিকে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করা হয়।