Civil Disobedience Movement আইন অমান্য আন্দোলন
মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার পর্যালোচনা করতে গঠিত সাইমন কমিশন-এ কোনো ভারতীয় সদস্য ছিল না। ভারতীয়দের কাছে এটি ছিল চরম অপমানস্বরূপ। বড়লাট লর্ড আরউইন-এর ঘোষনা সত্ত্বেও ভারতকে স্বায়ত্বশাসন দেওয়ার ব্যাপারেও ব্রিটিশ সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। এই অবস্থায় 1929 খ্রি. 31 ডিসেম্বর জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশন-এ পূর্ন স্বাধীনতার প্রস্তাব নেওয়া হয় এবং আইন অমান্য আন্দোলন সূচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইন অমান্য আন্দোলন দুটি পর্যায়-এ হয়েছিল-
- প্রথম পর্যায় (1930 - 1931)
- দ্বিতীয় পর্যায় (1932 - 1934)
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে আইন অমান্য আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ন অধ্যায়।
আইন অমান্য আন্দোলন শুরুর কারনসমূহ
- সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার জন্য তুলো, পাট, ধান ইত্যাদির বাজারমূল্য খুব কমে যায়, ফলে কৃষকদের অবস্থার চরম অবনতি হয়। কলকারখানাতেও শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়েছিল। এর ফলে শ্রমিক ও কৃষকরা ধর্মঘট ও বিভিন্ন আন্দোলন করতে শুরু করলে ব্রিটিশ সরকার নিষ্ঠুর দমননীতি শুরু করে।
- বিভিন্ন স্থানে হিংসাত্মক বিপ্লবী কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছিল।
- 1930 খ্রি. 30 জানুয়ারি গান্ধীজি ইয়ং ইন্ডিয়া পত্রিকার মাধ্যমে সরকারের কাছে এগারো দফা দাবি পেশ করেন এবং বলেন সরকার দাবিগুলি মেনে নিলে তিনি আইন অমান্য আন্দোলন করবেন না। তৎকালীন বড়োলাট লর্ড আরউইন গান্ধীজির কথায় কোনো কর্নপাত করেন নি, উপরন্তু গান্ধীজিকে কোনোরকম আন্দোলনের পথে যাওয়া থেকে সতর্ক করে দেন। এতে গান্ধীজি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে অহিংস আইন অমান্য আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নেন।
"নতজানু হয়ে আমি একটুকরো রুটি চেয়েছিলাম, পরিবর্তে পাথর পেলাম"। - গান্ধীজি (ইয়ং ইন্ডিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত এগারো দফা দাবি ব্রিটিশ সরকার প্রত্যাখ্যান করার পর)